• August 01, 2026
মুক্তমত

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

সম্পাদক
  • ১১-০৭-২০২৬

আজ বিশ্ব  জনসংখ্যা দিবস

উন্নয়নের স্বাদ প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌছাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্রুহারে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। জনসংখ্যা দারিদ্রতা সৃষ্টি করা কি না সেটা নির্ভর করে জনসংখ্যাকে কিভাবে তৈরি করা হয় তার ওপর। যেমন- প্রতিটি মানুষ যদি শিক্ষা লাভের আওতায় আসে, প্রযুক্তি জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং আতœনির্ভরশীল হওয়ার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তাহলে সে নিজেকে সম্পদ হিসেবেই গড়ে তোলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে যদি বাসস্থানের সুযোগ, কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি, আবাদী জমি রক্ষা, পুকুর ডোবা ভরাট থেকে বিরত থাকা সহ নানা পদক্ষেপ নিতে না পারলে সমাজে নানা প্রতিবন্ধকতা আসবে। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য সবকিছুই প্রয়োজন যা একজন নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে দাবি করতে পারে। ক্রমেই সেই চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

জনসংখ্যা পৃথিবীর জন্য একটি বড়ো সমস্যা হলেও ঠিক পুরো পৃথিবীর সমস্যা বলা যায় না। কারণ পৃথিবীর জনসংখ্যার এই মাত্রাধিক্য সর্বত্র সমান নয়। যেমন- পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় যতো মানুষ রয়েছে ইউরোপ-আমেরিকায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষ নেই। আবার দক্ষিণ এশিয়ায় যেভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এশিয়ার অন্য অংশের কম আছে। অতএব জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি বা সমস্যা কয়েকটি দেশের বা দু’একটি মহাদেশের। সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সমানভাবে সমস্যা তৈরি করছে না। আবার যেসব দেশের জনসংখ্যাকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিজ্ঞান দিয়ে মিশ্রিত করা গেছে সেসব দেশের জনসংখ্যা মানেই সম্পদ। অতিরিক্ত জনসংখ্যা সম্পদ না সমস্যা এটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটা মূলত নির্ভর করছে জনসংখ্যাকে কিভাবে গড়ে তুলছে। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে কি না তার ওপর। অতিরিক্ত জনসংখ্যা যেমন এশটি সমস্যা সেভাবেই জনসংখ্যা কমে যাওয়াটাও একটা সমস্যা। আসলে জনসংখ্যা কম নয় প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ করা। বৃদ্ধি হারকে শূণ্যের কোঠায় আনা নয় বরং কমিয়ে আনা। কারণ দেশের জন্য তরুণ জনগোষ্ঠী প্রয়োজন রয়েছে। এখন দেশ যদি তাদের দক্ষ বা যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পারে তাহলেই জনসংখ্যা সম্পদে রুপান্তর করা সম্ভব হবে এবং তখন এটা কোনো সমস্যা না  হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের জন্য উপযুক্ত কাজ নিশ্চিত করা, তাদের কাজে উৎসাহিত করা এবং এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান,ঋণ বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তরিত করতে সক্ষম হলে তা সম্পদ। আর এই সম্পদই হলো বিশে^র সবচেয়ে বড় সম্পদ। অন্যান্য সম্পদ আমরা এখন যা ব্যবহার করছি তা কোনো না কোনো সময় শেষ হবে। কিন্তু মানুষ যদি চেষ্টা করে তবে এর বিকল্প মানুষই উদ্ভাবন করতে পারে। এশিয়ার বৃহত্তম দেশ চীন বৃহৎ জনগোষ্ঠির দেশ। একসময় চীনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে এক শিশু নীতি চালু করে। এই জনগোষ্ঠীকে চীন জনসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে ভালোভাবেই অগ্রসর হয়েছে। সেই সাথে টেনে ধরতে পেরেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম। 


উন্নয়নের স্বাদ প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌছাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্রুহারে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। জনসংখ্যা দারিদ্রতা সৃষ্টি করা কি না সেটা নির্ভর করে জনসংখ্যাকে কিভাবে তৈরি করা হয় তার ওপর। যেমন- প্রতিটি মানুষ যদি শিক্ষা লাভের আওতায় আসে, প্রযুক্তি জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং আতœনির্ভরশীল হওয়ার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তাহলে সে নিজেকে সম্পদ হিসেবেই গড়ে তোলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে যদি বাসস্থানের সুযোগ, কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি, আবাদী জমি রক্ষা, পুকুর ডোবা ভরাট থেকে বিরত থাকা সহ নানা পদক্ষেপ নিতে না পারলে সমাজে নানা প্রতিবন্ধকতা আসবে। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য সবকিছুই প্রয়োজন যা একজন নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে দাবি করতে পারে। ক্রমেই সেই চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। আজ যেমন পথশিশুরা অবহেলায় বা অনাদরে বড় হচ্ছে, যাদের এই সমাজে শিক্ষা থেকে সবকিছু পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা পাচ্ছে না। এ ধরনের অধিকার না পাওয়াদের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। যা আমাদের দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করবে। সমাজে বিশৃঙ্খলার দেখা দিতে পারে, অস্থিরতা বাড়তে পারে, দ্বিধাগ্রস্থ যুবকের সংখ্যা বাড়তে পারে যারা আমাদের দেশের সম্পদ হতে পারে। কিন্ত তাদের সেই মেধা, সেই যোগ্যতা কাজে না লাগাতে পারলে জনসম্পদ রূপান্তর করা কঠিন হয়ে পরবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে সফল করতে হলে সবার মধ্যে চাই সচেতনতা। সচেতন না হলে কোন কার্যক্রমই ফলপ্রসু হবে না। আমাদের সম্পদ সিমিত। এই সম্পদের একটি অঢেল প্রাপ্তি হলো দক্ষ জনসংখ্যা। সীমিত সম্পদ দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তার কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এই সম্পদকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এ সম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য  কর্তৃপক্ষ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়েই এ সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষায় যথাযথ গুরুত্বারোপ করতে হবে। হাতে কলমে শেখার কোন বিকল্প নাই। জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে। তখন অতিরিক্ত জনসংখ্যা বোঝা না হয়ে বরং সম্পদে পরিণত হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

 
শেয়ার করুন: